বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহাসিক কালানুক্রম
১৯৪৯ সালে রোজ গার্ডেনে প্রতিষ্ঠা থেকে মুক্তিযুদ্ধ, সংবিধান প্রণয়ন, রূপকল্প ২০৪১ এবং ৫ আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক প্রতিরোধ সংগ্রাম।
রোজ গার্ডেনে আওয়ামী মুসলিম লীগের জন্ম ও আত্মপ্রকাশ
২৩ জুন ১৯৪৯ ঢাকার রোজ গার্ডেনে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, শামসুল হক এবং তরুণ রাজনৈতিক নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের যুগ্ম সম্পাদনায় বাঙালির প্রথম জাতীয়তাবাদী ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দলের শুভ সূচনা ঘটে। ১৯৫৫ সালে দলটিকে সার্বজনীন ও অসাম্প্রদায়িক রূপ দিতে 'মুসলিম' শব্দটি বর্জন করে 'আওয়ামী লীগ' নামকরণ করা হয়।
মায়ের ভাষার অধিকার ও আওয়ামী লীগের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম
কারাবন্দী তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের দিকনির্দেশনায় এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষার মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করার গণআন্দোলন গড়ে ওঠে। ২১ ফেব্রুয়ারি সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারের রক্তে রঞ্জিত হয় রাজপথ।
বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি পেশ
লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির শোষণমুক্তি ও স্বায়ত্তশাসনের রূপরেখা হিসেবে ঐতিহাসিক ৬ দফা ঘোষণা করেন। একে বাঙালির 'ম্যাগনাকার্টা' হিসেবে গণ্য করা হয়, যা পরবর্তীতে স্বাধীনতা যুদ্ধের বীজ বপন করে।
বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধুর ম্যান্ডেট লাভ
পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথম সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদের ১৬৯টি পূর্ব পাকিস্তান আসনের মধ্যে ১৬৭টিতে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। বাঙালি জাতি এক কণ্ঠে বঙ্গবন্ধুকে তাদের একমাত্র মুখপাত্র হিসেবে নির্বাচিত করে।
ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ, স্বাধীনতা ঘোষণা ও বিজয় অর্জন
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধুর বজ্রকণ্ঠের ৭ই মার্চের অমর ভাষণ: "এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।" ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি হানাদারদের বর্বরোচিত গণহত্যার মুখে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। ১৭ এপ্রিল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে স্বাধীন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকার (মুজিবনগর সরকার) শপথ গ্রহণ করে এবং ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয়।
১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর সপরিবারে হত্যাকাণ্ড ও ৩ নভেম্বর জেলহত্যা
স্বাধীনতাবিরোধী আন্তর্জাতিক ও দেশীয় প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের ষড়যন্ত্রে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাসভবনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে হত্যা করা হয় জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী ও এএইচএম কামারুজ্জামানকে। শুরু হয় কালো ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ ও সামরিক স্বৈরাচারীদের যুগ।
জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও দীর্ঘ ২১ বছরের লড়াই
১৭ মে ১৯৮১ নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফিরে এসে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব নেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারে কোটি জনতার ভরসার প্রতীক হয়ে ওঠেন তিনি। ১৯৯০-এ ১৫ দলীয় জোটের নেতৃত্বে সামরিক শাসক এরশাদের পতন ঘটান।
ইনডেমনিটি বাতিল, শান্তি চুক্তি ও খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণতা
দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করে ইনডেমনিটি কালো আইন বাতিল করা হয় এবং বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার শুরু হয়। ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি ও ভারতের সাথে গঙ্গার ৩০ বছর মেয়াদী পানিবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল ও এলডিসি উত্তরণ
২০০৮ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ ঘোষণা। নিজস্ব অর্থায়নে ৬.১৫ কিমি দীর্ঘ পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ, ঢাকায় দ্রুতগতির আধুনিক মেট্রোরেল চালু, দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম নদীগর্ভ টানেল (বঙ্গবন্ধু টানেল), রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সমুদ্রসীমা জয় এবং চরম দারিদ্র্য ৪১% থেকে ১৮%-এ নামিয়ে আনা।
রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় সুপরিকল্পিত হামলা ও ৫ আগস্টের অন্ধকার অধ্যায়
কোটা সংস্কার আন্দোলনের ছদ্মাবরণে উগ্রপন্থী চক্র মেট্রোরেল স্টেশন, বিটিভি ভবন, সেতু ভবন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ভবনে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেয়। ৫ আগস্ট ২০২৪ অসাংবিধানিক সরকার প্রতিষ্ঠার পরপরই ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের স্মৃতি জাদুঘর ও সারা দেশের আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভস্মীভূত করা হয় এবং নেতাকর্মীদের ওপর ইতিহাসের নিকৃষ্টতম হামলা শুরু হয়।
পাইকারি মিথ্যা মামলা, রিমান্ড নির্যাতন ও আওয়ামী লীগের প্রতিরোধ
আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও তৃণমূলের লাখ লাখ কর্মীর বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে মিথ্যা হত্যা মামলা দায়ের, প্রবীণ নেতাদের রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন ও আদালত চত্বরে হামলার ঘটনা চলছে। এই অবিচারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী উইং, জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন ও আন্তর্জাতিক ফোরামে গণতন্ত্র ও সংবিধান পুনর্বহালের ঐতিহাসিক আইনি সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দর্শন
বাঙালির সকল গৌরবময় অর্জন ও স্বাধীনতার রক্তিম সূর্য ছিনিয়ে এনেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। ১৯৪৯ সাল থেকে শুরু করে প্রতিটি দুর্যোগ, সংগ্রাম ও উন্নয়নে কোটি জনতার হৃদস্পন্দনে মিশে আছে এই দল।